রয়টার্স | ওয়াশিংটন
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হবে—এ বিষয়ে সরকারি বিধিনিষেধ আরও বাড়ানোর পক্ষে জনমত তৈরি হচ্ছে।
রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারির পক্ষে। একই জরিপে ৬৬ শতাংশ মানুষ এমন আইনের সমর্থন জানিয়েছেন, যাতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ ঠেকাতে বয়স যাচাই প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হবে।
শুধু তা-ই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—তা নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জন্য আসক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। প্রায় একই সংখ্যক মানুষ মনে করেন, এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ছয় দিন ধরে পরিচালিত জরিপটি গত ৩ আগস্ট শেষ হয়। অনলাইনে পরিচালিত এ জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের ফলাফলের সম্ভাব্য ভুলের সীমা ২ শতাংশ পয়েন্ট।
এমন এক সময়ে জরিপের ফল প্রকাশিত হলো, যখন Meta Platforms এবং Google-এর ইউটিউবের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তাদের প্ল্যাটফর্মের প্রভাব নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ বয়স যাচাইয়ের পক্ষে
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাধা দিতে কোম্পানিগুলোকে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য করা উচিত।
রাজনৈতিক দলভেদেও এই প্রস্তাবের প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা গেছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৬৯ শতাংশ।
অর্থাৎ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে দুই প্রধান দলের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে উভয় দলের মধ্যেই সরকারি পদক্ষেপের পক্ষে শক্তিশালী জনসমর্থন রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর সামগ্রিকভাবে আরও কঠোর নজরদারির প্রশ্নেও জনমত স্পষ্ট। জরিপে ৬১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে আরও কঠোর সরকারি নজরদারি প্রয়োজন।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ মতের সমর্থন ৭১ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের মধ্যে ৬২ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক কম। তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
রাজনৈতিক বিভাজন ছাপিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। একদিকে রক্ষণশীলদের একটি অংশ সরকারি হস্তক্ষেপকে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যবসায়িক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখে। অন্যদিকে শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন হয়রানি ঠেকাতে আরও কঠোর আইন করার দাবি রয়েছে।
নতুন জরিপের ফলাফল দেখাচ্ছে, অন্তত শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে এই রাজনৈতিক বিভাজন অনেকটাই কমে এসেছে।
টেনেসির ৬০ বছর বয়সী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জেমস বসারডেট এর একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। সাধারণভাবে তিনি মনে করেন, মার্কিন নাগরিকদের জীবনে সরকারের ভূমিকা যত কম থাকে তত ভালো।
কিন্তু শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।
বসারডেটের ভাষায়, বিষয়টি সরকারের দায়িত্ব কি না—সে বিষয়ে তাঁর দ্বিধা আছে। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুদের সুরক্ষার জন্য কাউকে না কাউকে ব্যবস্থা নিতেই হবে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর এই অবস্থান জরিপে উঠে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতাকে তুলে ধরে—সরকারের ভূমিকা সীমিত রাখার পক্ষে থাকা অনেক মার্কিন নাগরিকও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারি হস্তক্ষেপকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছেন না।
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইনি চাপের মুখে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনি চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, মেটার বিভিন্ন পণ্য এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে তরুণ ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত থাকে এবং একপর্যায়ে আসক্ত হয়ে পড়ে।
এই অভিযোগ নিয়ে একটি মামলার বিচার শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মেটা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কোম্পানিটির দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলো এই মামলায় জয়ী হলে তাদের সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।
এর বাইরে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত সম্প্রতি মেটাকে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
এক ডজনের বেশি অঙ্গরাজ্যে নতুন আইন
ফেডারেল পর্যায়ে এখনো শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে বড় কোনো আইন পাস হয়নি। তবে অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের উদ্যোগে বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১২টির বেশি অঙ্গরাজ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে আইন পাস করেছে। এসব আইনের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি কমানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কিন্তু প্রযুক্তি শিল্প এসব উদ্যোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছে।
মেটা, টিকটক ও স্ন্যাপের মতো বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর সমর্থনপুষ্ট বাণিজ্যিক সংগঠন NetChoice বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার বিভিন্ন আইনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
তাদের যুক্তি, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের মতো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত বাক্স্বাধীনতার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ কারণে শিশুদের সুরক্ষা বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতা—এই দুই প্রশ্নের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করা হবে, সেটি এখন মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৮৫ শতাংশের উদ্বেগ আসক্তি নিয়ে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি শিশুদের নির্ভরশীলতা নিয়ে জনমত কতটা উদ্বিগ্ন, জরিপের আরেকটি ফল তা স্পষ্ট করে।
৮৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জন্য আসক্তিকর হতে পারে।
প্রায় একই সংখ্যক মানুষ মনে করেন, এসব প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসির ৩৪ বছর বয়সী বাসিন্দা ক্রিস্টোফার চেন মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো কিশোরদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। তাঁর মতে, ব্যবহারকারীরা কী দেখবেন, কীভাবে প্ল্যাটফর্মে সময় কাটাবেন এবং কোন ধরনের কনটেন্ট তাঁদের সামনে বারবার আসবে—এসব বিষয়ে কোম্পানিগুলোর অ্যালগরিদমের প্রভাব অত্যন্ত বেশি।
চেন বলেন, ঠিক কী ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তা তিনি জানেন না। তবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কিছু একটা করা দরকার।
২০২৪ সালের নির্বাচনে চেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দিয়েছিলেন।
শিশুদের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে শুধু আইন করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে না, অভিভাবকদের অভিজ্ঞতাও তা দেখাচ্ছে।
কানসাসের ৭৩ বছর বয়সী পলা ডিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো শিশুদের অনুপযুক্ত কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে আরও ভালো ব্যবস্থা নিতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর ওপর সরকারের আরও নজরদারি থাকা উচিত।
নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করার সময় তিনি তাঁদের ইউটিউব ব্যবহার করতে দেন না। কিন্তু শিশুরা কোনো না কোনোভাবে আবার সেই প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার পথ খুঁজে নেয়।
অভিভাবকেরা মোবাইল ফোনে যে নিষেধাজ্ঞা বা ব্লকিং ব্যবস্থা দেন, শিশুরা অনেক সময় তা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় বের করে ফেলে বলেও তিনি জানান।
এই অভিজ্ঞতা বয়স যাচাই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। কারণ শুধু একজন ব্যবহারকারী কত বছর বয়সী, তা জানাই যথেষ্ট নয়; সেই তথ্য যাচাই কতটা নির্ভরযোগ্য এবং শিশুদের গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করা হবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি অপছন্দ করেন না মার্কিনরা
তবে জরিপের ফলাফল এমন নয় যে মার্কিন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চান।
বরং অনেকেই এসব প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখেন।
জরিপে ৭০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটিয়ে তাঁরা আনন্দ পান। অর্থাৎ শিশুদের জন্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না অধিকাংশ মানুষ।
অন্যদিকে ৩৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে তাঁরা মানসিক চাপ অনুভব করেন।
নিজেদের ব্যবহারের মাত্রা নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। ৫২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ মনে করেন, তাঁরা অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন না।
অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা দ্বিমুখী—একদিকে বিনোদন, যোগাযোগ ও আনন্দ; অন্যদিকে সময়ের অপচয়, আসক্তি এবং মানসিক চাপ।
সামনে বড় প্রশ্ন: নিয়ন্ত্রণ কতটা, কীভাবে
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপের ফলাফল মার্কিন সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক থাকলেও শিশুদের নিরাপত্তা এখন এমন একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শের সীমারেখা অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
৬১ শতাংশ নাগরিক কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চান। ৬৬ শতাংশ ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার পক্ষে। আর ৮৫ শতাংশ মনে করেন, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তিকর হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, মার্কিন জনগণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে চাইছেন। বরং জনমতের মূল প্রবণতা হলো—প্ল্যাটফর্মগুলো থাকবে, কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করতে হবে এবং প্রয়োজনে সরকারকে সেই দায়িত্ব পালনে বাধ্যতামূলক কাঠামো তৈরি করতে হবে।
এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই নিয়ন্ত্রণের সীমা কোথায় হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা বা বাক্স্বাধীনতা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পরবর্তী পর্যায়ের বিতর্ক শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির ব্যবসা নিয়েই হবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অভিভাবকদের উদ্বেগ, সরকারের ক্ষমতার সীমা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং বাক্স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার।